ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, তিনি যতদিন প্রধানমন্ত্রীর পদে থাকবেন, ততদিন গাজা বা অধিকৃত পশ্চিম তীরে স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র গঠন করতে দেবেন না। ইসরাইলের আরব মুসলিম পার্টি ইউনাইটেড আরব লিস্টের নেতা মানসুর আব্বাসের বক্তব্যের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। প্রতিবেদনটি ২৩ আগস্ট ২০২৬ প্রকাশিত হয়।
শনিবার আরব শহর তাইবেতে নিজ দলের সাধারণ সম্মেলনে আব্বাস বলেন, তার দল ইসরাইল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করছে। তিনি বলেন, ফিলিস্তিন ইতোমধ্যেই একটি রাষ্ট্র হিসেবে বিদ্যমান এবং বিশ্বের বেশিরভাগ দেশ তাকে স্বীকৃতি দিয়েছে। তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার আহ্বান জানান।
নেতানিয়াহু বলেন, তিনি প্রধানমন্ত্রী থাকা পর্যন্ত ইরানের নিয়ন্ত্রণাধীন কোনো ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র গাজা বা জুডিয়া ও সামারিয়ায় প্রতিষ্ঠিত হবে না। পশ্চিম তীর বোঝাতে তিনি বাইবেলীয় জুডিয়া ও সামারিয়া শব্দ ব্যবহার করেন। ২৭ অক্টোবরের পার্লামেন্ট নির্বাচন সামনে রেখে তার জোট জরিপে পিছিয়ে থাকার সময় এ মন্তব্য আসে। লিকুদের বর্তমানে ৩২টি আসন থাকলেও শুক্রবারের এক জরিপে দলটির জন্য ২০টি আসনের পূর্বাভাস দেওয়া হয়।
প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র গঠন ঠেকানোর ঘোষণা নেতানিয়াহুর
ব্যবহারকারীদের প্রশ্নে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চ্যাটবটের উত্তর প্রভাবিত করতে ইসরাইল একটি কথিত থিঙ্ক ট্যাঙ্ক প্রতিষ্ঠা করেছে বলে রেসপন্সিবল স্টেটক্রাফটের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। আমার দেশ অনলাইন ২১ আগস্ট ২০২৬ এ তথ্য প্রকাশ করে। হ্যানোভার ইনস্টিটিউট ফর পাবলিক পলিসি নামের প্রতিষ্ঠানটি ইসরাইল ও ফিলিস্তিনবিষয়ক মার্কিন ধাঁচের গবেষণা সংস্থা হিসেবে পরিচয় দেয়। ইসরাইলি সরকারের একটি বিজ্ঞাপন সংস্থার পক্ষে পিরো ইনক এটি তৈরি করেছে।
গত ৬ আগস্ট থেকে প্রতিষ্ঠানটি ১০০টির বেশি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এসব প্রতিবেদনে ১৯৪৮ সালে ফিলিস্তিনিদের বাস্তুচ্যুতির কারণ এবং গাজা উপত্যকার বর্তমান পরিস্থিতির মতো গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হয়েছে। এআই চ্যাটবট ও লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেলের কাছে বিষয়বস্তু গ্রহণযোগ্য করতে প্রতিবেদনে পাদটীকা, সূচিপত্র, সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান ও নিরপেক্ষ ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটি গবেষণাগুলোকে পিয়ার-রিভিউড ও একাডেমিক বলে দাবি করলেও সেখানে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সরকারি উৎসকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ কাজের জন্য ইসরাইল সরকার পিরো ইনককে ৯ লাখ ডলার দিয়েছে। ফরাসি জনসংযোগ প্রতিষ্ঠান হাভাস মিডিয়ার মাধ্যমে উপ-চুক্তিটি পরিচালিত হয়েছে।
এআই চ্যাটবটের উত্তর প্রভাবিত করতে কথিত থিঙ্ক ট্যাঙ্কে ইসরাইলের অর্থায়নের অভিযোগ
শ্রমিকদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ইসরাইলের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরের কার্যক্রম বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টায় বন্ধ হয়ে যায় বলে দেশটির গণমাধ্যম জানিয়েছে। সব চেক-ইন কাউন্টার বন্ধ হওয়ায় বিমানবন্দরের পরিচালনা ও যাত্রীসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। চেক-ইন কার্যক্রম বন্ধ থাকায় তেল আবিবগামী কয়েকটি ফ্লাইট মাঝপথ থেকে ফিরে নিজ নিজ দেশে যেতে বাধ্য হয়েছে।
বিমানবন্দরে কাজ করা চারটি গ্রাউন্ড-সার্ভিস কোম্পানির কর্মীরাও কাজ বন্ধ করেছেন বলে জানা গেছে। বছরের অন্যতম ব্যস্ত সময়ে এই অচলাবস্থা দেখা দিয়েছে, যখন বিমানবন্দরটি প্রতিদিন প্রায় এক লাখ যাত্রী এবং ৬০০টি ফ্লাইট পরিচালনা করে। ইয়েনেট জানিয়েছে, বিমানবন্দর ও এয়ার ট্রাফিক কর্তৃপক্ষ বন্ধের আগেই বিমান সংস্থাগুলোকে বিষয়টি অবহিত করেছিল।
ইসরাইল এয়ারপোর্টস অথরিটি বলেছে, শ্রমিক কমিটির নির্দেশনায় কর্মবিরতির কারণে কার্যক্রম ও যাত্রীসেবা ব্যাহত হয়েছে এবং কর্মীদের তা অবিলম্বে প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে। কর্মবিরতি চললে আদালতের মাধ্যমে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার সতর্কতাও দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। পরিবহনমন্ত্রী মিরি রেগেভ মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক মোশে বেন জাকেনকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
শ্রমিক বিরোধে বেন গুরিয়ন বিমানবন্দর বন্ধ, চেক-ইন ও ফ্লাইট চলাচল ব্যাহত
ইসরাইলের বিরোধী ডেমোক্র্যাটস পার্টির নেতা ইয়ার গোলান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে চরমপন্থি ও অবিশ্বস্ত ব্যক্তিত্ব বলে আখ্যায়িত করেছেন। সিরিয়ায় ইসরাইলের সাম্প্রতিক হামলার সমালোচনা করে সামাজিক মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন। প্রতিবেদনটি ২০ আগস্ট ২০২৬ প্রকাশিত হয়।
গোলান সিরিয়ায় ইসরাইলের হামলাকে উসকানিমূলক ও বিপজ্জনক পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেন। তার মতে, এসব হামলা ইসরাইলকে তুরস্কের সঙ্গে সংঘাতের দিকে ঠেলে দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি করেছে। তিনি অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক বিবেচনায় সামরিক শক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে।
বিরোধীদলীয় এই নেতা বলেন, নেতানিয়াহুর কর্মকাণ্ড ইসরাইলের প্রতি আস্থা ক্ষুণ্ন করছে। তার মতে, দেশটির এমন নেতৃত্ব প্রয়োজন, যারা নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ক্ষমতা ও সামরিক শক্তি ব্যবহার করবে; রাজনৈতিক অস্তিত্ব রক্ষার জন্য আরেকটি যুদ্ধ শুরু করবে না।
সিরিয়ায় হামলা নিয়ে নেতানিয়াহুর সমালোচনায় ইয়ার গোলান
আগামী নির্বাচনের আগে ইসরাইল থেকে দেশত্যাগ দ্রুত বাড়ছে বলে একাধিক গবেষণায় উঠে এসেছে। দেশ ছাড়াদের মধ্যে তরুণ, উচ্চশিক্ষিত এবং তুলনামূলক বেশি আয়ের মানুষের সংখ্যা বেশি। ইসরাইলি কর কর্তৃপক্ষের গবেষণায় ২০২৩ ও ২০২৪ সালে আগের বছরগুলোর তুলনায় দেশত্যাগ বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে। তেল আবিব বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাবে, গত তিন বছরে প্রায় ২ লাখ ৭০ হাজার ইসরাইলি দেশ ছেড়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকারের ডানপন্থি নীতি, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা কমানোর উদ্যোগ, রাজনৈতিক মেরুকরণ এবং দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ শিক্ষিত ও উদারপন্থি ইসরাইলিদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে। ২০২৩ সালে বিচারব্যবস্থা সংস্কারের সরকারি উদ্যোগের বিরুদ্ধে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছিল। জনসংখ্যাবিদ সার্জিও ডেলা পারগোলা মনে করেন, এবার দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তাহীনতা ও দেশের রাজনৈতিক গতিপথ নিয়ে উদ্বেগই প্রধান কারণ।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তরুণ ও দক্ষ নাগরিকদের বহির্গমন প্রযুক্তি, গবেষণা ও উন্নয়ন খাতে জনবল কমিয়ে অর্থনীতিতে ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। গবেষক লিলাখ লেভ আরি পরিস্থিতিকে উদ্বেগজনক বললেও এখনই আতঙ্কের কারণ দেখছেন না। বিরোধী রাজনীতিক গিলাদ কারিভ একে ‘সুনামি’ বলেছেন, আর বিশ্লেষক শির হেভার নার্সসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কর্মীদের দেশত্যাগের প্রভাবের দিকেও নজর দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
তরুণ ও উচ্চশিক্ষিত নাগরিকদের নেতৃত্বে ইসরাইল থেকে দেশত্যাগ বাড়ছে বলে গবেষণায় উঠে এসেছে
ইসরাইলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি মঙ্গলবার পশ্চিম তীরের উগ্রপন্থি ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের ‘সন্ত্রাসী’ বলার অবস্থানে অটল থাকার কথা জানান। চ্যানেল ১২ নিউজকে তিনি বলেন, কুসরা গ্রামের কয়েকটি বাড়ি এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে ঘিরে রাখার ঘটনায় বসতি স্থাপনকারীদের উদ্দেশ্য ছিল বাসিন্দাদের এলাকা ছাড়তে বাধ্য করা। ঘেরাও হওয়া বাসিন্দাদের মধ্যে একজন মার্কিন নাগরিক রয়েছেন।
হাকাবি সন্ত্রাসবাদের সংজ্ঞা ব্যাখ্যা করে বলেন, কোনো কাজ মানুষের আচরণ বদলাতে বাধ্য করলে, তাদের জীবনযাপন নিয়ে ভীত করে তুললে এবং নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে ব্যক্তি, পরিবার বা জাতির ওপর চাপ সৃষ্টি করলে তা সন্ত্রাস। তিনি অভিযুক্তদের ইসরাইলের একটি সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর সদস্য বলে উল্লেখ করেন এবং বলেন, তাদের অনেকেই পশ্চিম তীরের বাইরে থাকেন। তাদের বসতি স্থাপনকারী নয়, ‘উচ্ছেদকারী’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, তারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে এবং ইসরাইল ও ইহুদি জনগণের ক্ষতি করছে।
রাষ্ট্রদূত বলেন, মার্কিন দূতাবাস সরাসরি যুক্ত থাকুক বা না থাকুক, কুসরার ঘটনাটি মোকাবিলায় ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে তিনি বিশ্বাস করেন। তবে কোনো মার্কিন নাগরিক জড়িত থাকলে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততা প্রায় স্বয়ংক্রিয় ও তাৎপর্যপূর্ণ হবে। নেতানিয়াহুর প্রকাশ্য নিন্দা নিয়ে প্রশ্নে হাকাবি দায়িত্বশীল পদক্ষেপ এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত সবার জন্য কঠোর পরিণতি চান।
কুসরা অবরোধে উগ্র বসতি স্থাপনকারীদের সন্ত্রাসী বলার অবস্থানে হাকাবি অটল
গাজায় ইসরাইলি সামরিক অভিযানে প্রতিরাতে ৩০ থেকে ৪০ জনকে হত্যায় উৎসাহ দেওয়ার অভিযোগে ইসরাইলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরের পদত্যাগ দাবি করেছেন মার্কিন সিনেটর জ্যাকি রোজেন। ১৭ আগস্ট ২০২৬ প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ডেমোক্র্যাট সিনেটর রোজেন বেন-গভিরের মন্তব্যকে ‘ভয়াবহ ও সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে রোজেন বলেন, নিরপরাধ বেসামরিক মানুষের বিরুদ্ধে সহিংস কর্মকাণ্ডের পক্ষে যারা কথা বলেন, তাদের কোনো সরকারি পদে থাকা উচিত নয়। এ কারণে বেন-গভিরের পদত্যাগ করা প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন।
রোজেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকেও বেন-গভিরের মন্তব্যের নিন্দা জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর মতে, নেতানিয়াহুর বিশ্বকে স্পষ্টভাবে জানানো উচিত যে এমন বক্তব্য ইসরাইলি সরকারের অবস্থান নয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি একটি পডকাস্টে বেন-গভির গাজায় প্রতিরাতে ৩০ থেকে ৪০ জনকে হত্যায় উৎসাহ দেন। বক্তব্যটি ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে এবং তাঁর পদত্যাগের দাবি জোরালো হয়েছে।
গাজায় হত্যার আহ্বানের অভিযোগে বেন-গভিরের পদত্যাগ চাইলেন মার্কিন সিনেটর জ্যাকি রোজেন
ইসরাইলের উগ্রপন্থি জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির গাজা উপত্যকায় প্রতি রাতে ৩০ থেকে ৪০ জনকে লক্ষ্য করে গুপ্তহত্যা করা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন। ১৭ আগস্ট ২০২৬ প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, হামাসের কাছ থেকে মুক্তি পাওয়া এক সাবেক জিম্মির জন্য আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি গাজার কিছু মানুষের বেঁচে থাকার অধিকার নেই এবং তাদের মানুষ হিসেবেও গণ্য করা উচিত নয় বলে দাবি করেন।
বেন-গভির বলেন, শুধু ইসরাইলের জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত ব্যক্তিদের লক্ষ্য করার কথা তিনি বলছেন না। তার ভাষ্য অনুযায়ী, গাজায় এমন মানুষ আছেন যাদের বেঁচে থাকা উচিত নয়। তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে তাঁর মতপার্থক্য রয়েছে এবং এই অবস্থান কোনো গোপন বিষয় নয়।
ইসরাইলি মন্ত্রী গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের ব্যাপকভাবে স্থানান্তরের পক্ষেও কথা বলেন। তিনি পুরো গাজা উপত্যকা ইসরাইলের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পক্ষে অবস্থান জানান এবং গাজাকে ইসরাইলের অংশ হিসেবে দেখতে চান। গাজার বাসিন্দাদের যতটা সম্ভব স্থানান্তর করে তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর কথা বলেন তিনি। যাদের সন্ত্রাসী বলেছেন, তাদের কোথাও যেতে না দিয়ে একজন একজন করে হত্যার কথাও উল্লেখ করেন বেন-গভির।
গাজায় প্রতিরাতে ৩০–৪০ জনকে হত্যার আহ্বান বেন-গভিরের
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক কূটনীতিক মাইকেল র্যাটনির মতে, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নিজের দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ রক্ষার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গাজা পরিকল্পনার বিরোধিতা করতে প্রস্তুত হতে পারেন। ১২ আগস্ট ২০২৬ প্রকাশিত আল জাজিরার প্রতিবেদনে র্যাটনির এই মূল্যায়ন তুলে ধরা হয়েছে।
সৌদি আরবে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত এবং ইসরাইলে মার্কিন দূতাবাসের সাবেক চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স র্যাটনি বলেন, ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া যেমনই হোক, প্রকাশ্যে পরিকল্পনাটি প্রত্যাখ্যান করাই নেতানিয়াহুর জন্য ভালো হতে পারে। তার মূল্যায়নে, আগামী কয়েক মাসে নেতানিয়াহুর নির্বাচনি সম্ভাবনাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয়।
র্যাটনির মতে, ট্রাম্পের সঙ্গে নেতানিয়াহুর বাস্তব যোগাযোগ কেমন এবং পরিকল্পনার কিছু অংশে তিনি শেষ পর্যন্ত কতটা সম্মতি দেবেন, তা গৌণ। বরং ইসরাইলের ভোটারদের সামনে তিনি কী অবস্থান তুলে ধরছেন, সেটিই তার রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ভোটারদের মনোভাব বিবেচনায় নিয়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি সত্ত্বেও পরিকল্পনাটি প্রকাশ্যে প্রত্যাখ্যান করতে পারেন।
র্যাটনির মতে, নির্বাচনি হিসাবেই ট্রাম্পের গাজা পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করতে পারেন নেতানিয়াহু
ইসরাইল গাজায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত শান্তি পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করার পর ট্রাম্প এখনো সরাসরি কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি। হোয়াইট হাউসও এ বিষয়ে মন্তব্য করেনি। ১২ আগস্ট ২০২৬ প্রকাশিত আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই নীরবতার মধ্যে ট্রাম্প ও ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সম্পর্ক নিয়ে নতুন প্রশ্ন উঠেছে।
হোয়াইট হাউসে আগের দিনের এক ব্রিফিংয়ে গাজা ও নেতানিয়াহু সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প সাংবাদিকদের তার ট্রুথ সোশ্যাল পোস্ট দেখতে বলেন। তবে তার ওই অ্যাকাউন্টে বিষয়টি নিয়ে কোনো পোস্ট পাওয়া যায়নি। এতে যোগাযোগে বিভ্রাট হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে এবং দুই নেতার মধ্যে টানাপোড়েনের ধারণা জোরালো হয়।
দুই সপ্তাহ আগে নেতানিয়াহু ওয়াশিংটন সফরে গিয়ে হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরা অনুমোদিত ছিল না এবং আলোচনার বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি। প্রতিবেদনে গুঞ্জনের কথা উল্লেখ করে বলা হয়েছে, নেতানিয়াহুর কিছু কর্মকাণ্ড ও বক্তব্যে ট্রাম্প বিরক্ত। বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিকভাবে দুই নেতা এখন একে অন্যের জন্য নির্বাচনি বোঝা হয়ে উঠতে পারেন।
গাজা শান্তি পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যানের পর ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর সম্পর্কে টানাপোড়েনের ইঙ্গিত
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর গাজা পরিকল্পনা প্রকাশ্যে প্রত্যাখ্যান আসন্ন অক্টোবরের নির্বাচনের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে মন্তব্য করেছেন তার সাবেক সহযোগী মিচেল বারাক। আলজাজিরার বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বারাক বলেন, এই অবস্থান মূলত নির্বাচনে জয়ের আশা ও রাজনৈতিক হিসাবের সঙ্গে যুক্ত। তিনি বলেন, নেতানিয়াহু এমন এক মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রত্যাখ্যানের ঘোষণা দেন, যখন তার কট্টর ডানপন্থি সরকারের আর বেশিদিন ক্ষমতায় থাকার সম্ভাবনা নেই।
বারাকের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি নেতানিয়াহুর চূড়ান্ত অবস্থান পরিবর্তন নয়; বরং একটি প্রাথমিক অবস্থান। তার মতে, এই পদক্ষেপ ওয়াশিংটনকে লক্ষ্য করে নয়, বরং নেতানিয়াহুর নিজস্ব রাজনৈতিক ভিত্তিকে লক্ষ্য করে নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে নেতানিয়াহুর আসল দর কষাকষির হাতিয়ার হলো ট্রাম্পের সঙ্গে তার সম্পর্ক, যেটিকে তিনি যেকোনো বিশ্বনেতার সঙ্গে সেরা সম্পর্ক হিসেবে বর্ণনা করেন।
বারাক আশা প্রকাশ করেন যে, ইসরাইল শিগগির বা পরে ট্রাম্পের পরিকল্পনা মেনে নেবে। তিনি এই প্রত্যাখ্যানকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্থায়ী বিচ্ছেদ হিসেবে দেখেন না। বরং হামাসের নিরস্ত্রীকরণকে কেন্দ্র করে ক্রম ও সময় নির্ধারণের বিষয় হিসেবে তুলে ধরেন। তার মতে, নেতানিয়াহু ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্ক হারাতে চান না।
বারাকের মতে, নেতানিয়াহুর গাজা পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান মূলত অক্টোবরের নির্বাচনী কৌশল
ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গাজা যুদ্ধবিরতি সংক্রান্ত প্রস্তাবিত একটি চুক্তি প্রত্যাখ্যান করেছেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। প্রতিবেদনের ভাষ্য অনুযায়ী, এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি প্রচেষ্টা ভেস্তে গেছে। হোয়াইট হাউস ৩১ জুলাই গুরুত্বের সঙ্গে চুক্তিটি ঘোষণা ও প্রচার করেছিল। সংবাদটি ৯ আগস্ট ২০২৬ প্রকাশ ও হালনাগাদ করা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর সম্পর্ক দিন দিন খারাপ হচ্ছে। বছরের শুরুতে তাদের একটি ফোনালাপে ব্যাপক গালাগালির ঘটনা ঘটেছিল বলেও এতে দাবি করা হয়। ট্রাম্প বিশ্বমঞ্চে সম্মানহানি পছন্দ করেন না উল্লেখ করে প্রতিবেদনে নেতানিয়াহুর এই অবস্থানকে তার জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক খেলা হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।
ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রাইমারিতে আইপ্যাকের ব্যয় সত্ত্বেও ইসরাইলের সহায়তা প্রত্যাহারের দাবিতে লক্ষ্যবস্তু হওয়া প্রার্থীদের জয় পাওয়ার কথাও প্রতিবেদনে রয়েছে। এতে বলা হয়, ডেমোক্র্যাটরা ফিলিস্তিনিদের স্বার্থের দিকে ঝুঁকছে। প্রতিবেদনের মতে, প্রেসিডেন্ট রিপাবলিকান পার্টির ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রাখেন এবং ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্নের প্রশ্ন তুললে অনেক রিপাবলিকান তার সঙ্গে একমত হতে পারেন।
গাজা যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের পর ট্রাম্প-নেতানিয়াহু সম্পর্ক নিয়ে উদ্বেগ
গাজা উপত্যকা নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’-এর প্রস্তাবিত ১৫ দফা পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করেছে ইসরাইল। ৯ আগস্ট ২০২৬ প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, হামাসকে সম্পূর্ণভাবে নিরস্ত্র না করা পর্যন্ত গাজা থেকে ইসরাইলি বাহিনী প্রত্যাহার করা হবে না।
নেতানিয়াহু বলেন, ইসরাইল ১৫ দফার নথিটি গ্রহণ করেনি। তাঁর মতে, হামাসকে কেবল নামমাত্র বা ‘ভুয়া’ভাবে নিষ্ক্রিয় করা যথেষ্ট নয়; ইসরাইল সংগঠনটির প্রকৃত বিলুপ্তি চায়। তিনি বলেন, ইসরাইলের লক্ষ্য হামাসের কাল্পনিক নয়, বাস্তব বিলুপ্তি।
ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী জানান, এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা চলছে। যুক্তরাষ্ট্রের কিছু প্রস্তাব ইসরাইলের কাছে গ্রহণযোগ্য হলেও অন্য কিছু গ্রহণযোগ্য নয় বলে তিনি উল্লেখ করেন। এই বক্তব্য গাজা থেকে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার এবং হামাসের নিরস্ত্রীকরণ প্রশ্নে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মতপার্থক্যকে আরও স্পষ্ট করেছে। ইসরাইল সেনা প্রত্যাহারের অন্যতম প্রধান শর্ত হিসেবে হামাসের নিরস্ত্রীকরণকে দেখছে।
হামাসের পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ ছাড়া গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহার নয় বলে জানিয়েছে ইসরাইল
রাজনৈতিক অস্থিরতা, অর্থনৈতিক সংকট ও দীর্ঘস্থায়ী সামরিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ইসরাইল থেকে নাগরিকদের দেশ ছাড়ার প্রবণতা বেড়েছে বলে তেল আবিব বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ২ লাখ ৬৮ হাজার ৫০৯ জন ইসরাইলি নাগরিক অন্তত তিন মাসের জন্য দেশ ছেড়েছেন। ইয়েদিওথ আহরোনোথ তেল আবিব বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার বরাত দিয়ে তথ্যটি প্রকাশ করেছে।
গবেষণা অনুযায়ী, ২০২৩ সালে অন্তত তিন মাসের জন্য দেশ ছেড়েছেন ৮৬ হাজার ৫০৯ জন, ২০২৪ সালে ৯১ হাজার ৪৯৯ জন এবং ২০২৫ সালে ৯০ হাজার ৯২২ জন। এই প্রবণতা ২০২৩ সালে শুরু হয়ে ২০২৪ সালে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। তিন বছরে দীর্ঘ সময়ের জন্য দেশত্যাগের গড় ছিল বছরে প্রায় ৯০ হাজার, যেখানে ২০১০ থেকে ২০১৯ সালে বার্ষিক গড় ছিল প্রায় ৬০ হাজার।
ইয়েদিওথ আহরোনোথের আগের প্রতিবেদনে চিকিৎসক, পিএইচডিধারী, প্রকৌশলী, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও উচ্চ আয়ের পেশাজীবীদের দেশত্যাগ বেড়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। পত্রিকাটি বলেছে, উচ্চপ্রযুক্তি ও জ্ঞানভিত্তিক শিল্পে দক্ষ কর্মীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কারণে এই প্রবণতা দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির জন্য চ্যালেঞ্জ হতে পারে। গবেষণাটি প্রকাশের সময় গাজায় যুদ্ধ এবং লেবানন, সিরিয়া, ইয়েমেন ও ইরানে ইসরাইলের সামরিক অভিযান চলছিল।
২০২৩-২৫ সালে অন্তত তিন মাসের জন্য ইসরাইল ছেড়েছেন ২ লাখ ৬৮ হাজারের বেশি নাগরিক
গাজায় বহুজাতিক নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েনের পরিকল্পনা নিয়ে নতুন করে মন্ত্রিসভায় ভোট চেয়েছেন ইসরাইলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচ ও বসতিবিষয়ক মন্ত্রী ওরিত স্ট্রক। ৪ আগস্ট ২০২৬ প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তারা প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কাছে আগের অনুমোদন প্রত্যাহারের আহ্বানও জানিয়েছেন।
দ্য জেরুজালেম পোস্টের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘বোর্ড অব পিস’-এর পরিকল্পনা অনুমোদনের সময় মন্ত্রিসভাকে অসম্পূর্ণ ও বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেছেন দুই মন্ত্রী। অনুমোদিত পরিকল্পনায় গাজার ফিলিস্তিনিদের জন্য একটি পরীক্ষামূলক মানবিক অঞ্চল চালুর বিষয়ও রয়েছে।
গাজা পরিস্থিতি স্থিতিশীল করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগে গঠিত বোর্ড অব পিস সম্প্রতি পরিকল্পনাটি জানায়। ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, এতে হামাস নিরস্ত্র হবে এবং গাজা থেকে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার করবে। তবে আপত্তির পর বোর্ড বলেছে, সেনা সরে যাওয়ার আগে হামাসকে সম্পূর্ণ নিরস্ত্র হতে হবে। নিরস্ত্রীকরণ ও সেনা প্রত্যাহারের সময়সূচি নিয়ে ইসরাইল সরকার ও যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের পার্থক্য সামনে এসেছে।
গাজা পরিকল্পনায় নতুন মন্ত্রিসভা ভোট ও অনুমোদন প্রত্যাহারের দাবি দুই ইসরাইলি মন্ত্রীর
ইসরাইলের জেরুজালেম জেলা আদালত নেগেভ মরুভূমির কেতজিওত কারাগারের চারপাশের পরিখায় কুমির ছাড়ার পরিকল্পনা সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে। রোববার সন্ধ্যায় প্রাণী অধিকার সংগঠন ‘লেট দ্য অ্যানিমালস লিভ’-এর আবেদনের পর এই নিষেধাজ্ঞা জারি হয় বলে ইসরাইলের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম কান জানিয়েছে। গাজা থেকে আটক ফিলিস্তিনি বন্দিদের রাখা এই কারাগার ঘিরে কুমির ব্যবহারের পরিকল্পনাটি উগ্র ডানপন্থী নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গভিরের উদ্যোগ ছিল।
বিচারক আভরাহাম রুবিন পরিবেশ সুরক্ষামন্ত্রী ইদিত সিলমানের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে কর্তৃপক্ষকে পদক্ষেপ না নিতে নির্দেশ দেন। ওই সিদ্ধান্তে কুমিরকে ‘পোষা বন্যপ্রাণী’ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছিল, যাতে কুমির স্থানান্তর ও কারাগারে রাখার আইনি অনুমতি মিলত। আবেদনকারীদের ভাষ্য, এতে কুমিরের আইনি মর্যাদা বদলে সুরক্ষিত বন্যপ্রাণী হিসেবে তাদের ওপর থাকা নিয়ন্ত্রণ ও লাইসেন্সিং ব্যবস্থা প্রত্যাহার করা হয়।
কান জানায়, বেন গভির, সিলমান ও কারা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক আবেদন দাখিলের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রায়টি আসে। সিলমানের ১৫ জুলাইয়ের সিদ্ধান্তে কুমিরকে কারাগারের ‘প্রতিরোধমূলক ও নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা’ হিসেবে ব্যবহারের অনুমোদনের লক্ষ্য ছিল। কারা কর্তৃপক্ষ খাল খননসহ অবকাঠামো নির্মাণ শুরু করেছিল এবং জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রণালয় পাইলট প্রকল্পে প্রায় ২ কোটি ১০ লাখ শেকেল বরাদ্দ করেছিল।
কেতজিওত কারাগারের পরিখায় কুমির ছাড়ার পরিকল্পনায় আদালতের সাময়িক স্থগিতাদেশ
ইসরাইলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট বলেছেন, তিনি পুনরায় ক্ষমতায় এলে কাতারকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘শত্রু রাষ্ট্র’ ঘোষণা করবেন। ২ আগস্ট ২০২৬ প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরাইলি গণমাধ্যম চ্যানেল ১২-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি কাতারকে ইসরাইলের নিরাপত্তার জন্য ইরানের চেয়েও বেশি বিপজ্জনক বলে দাবি করেন।
বেনেটের মতে, দোহার বিরুদ্ধে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে শত্রু রাষ্ট্রের ঘোষণা না দেওয়া একটি ‘অমার্জনীয় ভুল’। তিনি বলেন, ইরান প্রকাশ্যে ইসরাইল ধ্বংসের ইচ্ছার কথা স্বীকার করে, কিন্তু কাতার গোপনে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলায় অংশ নেওয়া ‘নুখবা’ সন্ত্রাসীদের অর্থায়ন করেছে বলে তার অভিযোগ।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী আরও অভিযোগ করেন, কাতারভিত্তিক আল জাজিরা ইসরাইলের বিরুদ্ধে বিশ্বজুড়ে বিষাক্ত প্রচারণা চালাচ্ছে। তিনি কাতারের আন্তর্জাতিক প্রভাব নিয়েও উদ্বেগ জানান এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ করেন। তার দাবি, এই গোপন প্রভাব বিদেশ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছাড়িয়ে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ সংবেদনশীল নিরাপত্তা ক্ষেত্রেও পৌঁছেছে।
ক্ষমতায় ফিরলে কাতারকে শত্রু রাষ্ট্র ঘোষণার কথা বললেন নাফতালি বেনেট
আগামী দিনগুলোতে ইসরাইলের জন্য আকাশপথে জ্বালানি সরবরাহকারী আরও অন্তত ১০টি সামরিক বিমান পাঠাতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। ২ আগস্ট ২০২৬ প্রকাশিত আল-জাজিরার প্রতিবেদনে ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম ওয়াইনেটের বরাতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ওয়াইনেট নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সূত্র উদ্ধৃত করে বলেছে, নতুন বিমানগুলো পাঠানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন করে পাঠানো বেশির ভাগ মার্কিন সামরিক বিমান রাজধানী তেল আবিবের প্রধান বিমানবন্দর বেন গুরিয়নে পার্ক করে রাখা হবে। ওই বিমানবন্দরে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ৩০টিরও বেশি রিফুয়েলিং বিমান অবস্থান করছে। অতিরিক্ত ১০টি বিমান পৌঁছালে সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানিবাহী ট্যাংকার বিমানের সংখ্যা আরও বাড়বে।
সামরিক বিশেষজ্ঞদের ধারণা, মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অভিযান চালানোর সক্ষমতা জোরদার করতেই যুক্তরাষ্ট্র এই লজিস্টিক উপস্থিতি বাড়াচ্ছে। মাঝ আকাশে যুদ্ধবিমানগুলোতে জ্বালানি ভরে তাদের কার্যক্ষমতা বাড়ানোর ক্ষেত্রেও এসব বিমান ব্যবহৃত হতে পারে বলে তারা মনে করছেন। প্রতিবেদনে বিমান পাঠানোর নির্দিষ্ট সময় বা তাদের কার্যক্রমের বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়নি।
ইসরাইলে জ্বালানি সরবরাহে আরও অন্তত ১০টি মার্কিন সামরিক বিমান পাঠানোর খবর
ইরানে হামলা আরও জোরদার করা হবে কি না, তা নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আলোচনার মধ্যে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি বাড়িয়ে উচ্চ সতর্ক অবস্থানে গেছে। ২ আগস্ট ২০২৬ প্রকাশিত আল-জাজিরার প্রতিবেদনে ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম ওয়াইনেটের বরাতে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরাইলের সামরিক পরিকল্পনাবিদেরা সম্ভাব্য পরিস্থিতির মূল্যায়ন করেছেন। তাদের ধারণা, মার্কিন বাহিনী ইরানের অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালালে তেল আবিব সরাসরি সেই হামলায় অংশ না নিলেও ইরান ইসরাইলের বিরুদ্ধে পাল্টা হামলা চালাতে পারে। সেই সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া মোকাবিলার অংশ হিসেবেই এই আত্মরক্ষামূলক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
সামরিক বাহিনী উচ্চ সতর্কতায় থাকলেও ইসরাইলের হোম ফ্রন্ট কমান্ড এখন পর্যন্ত সাধারণ নাগরিকদের চলাচলে কোনো বিধিনিষেধ আরোপ করেনি। দেশের প্রধান বিমানবন্দর বেন গুরিয়নের ফ্লাইট কার্যক্রমও স্বাভাবিকভাবে চালু রয়েছে। প্রতিবেদনে ইসরাইলের সরাসরি কোনো সামরিক অংশগ্রহণ বা ইরানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক হামলার তথ্য দেওয়া হয়নি।
ইরানের সম্ভাব্য পাল্টা হামলার আশঙ্কায় প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি বাড়িয়েছে ইসরাইল
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরাইলের উগ্র ডানপন্থি নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গভির ফিলিস্তিনি রাজনৈতিক বন্দীদের পাহারায় নীল নদের কুমির ব্যবহারের ঘোষণা দিয়েছেন। চলতি মাসের শুরুতে ঘোষিত এই কর্মসূচি নেগেভ মরুভূমিতে অবস্থিত ইসরাইলের বৃহত্তম বন্দিশালা কেতজিওট থেকে শুরু হওয়ার কথা। ফিলিস্তিনিদের কাছে কারাগারটি আনসার ৩ নামে পরিচিত; প্রথম ইন্তিফাদার সময় এটি কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্প হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে বলা হয়।
পরিকল্পনা বাস্তবায়নে পরিবেশ সুরক্ষামন্ত্রী ইদিত সিলম্যান কুমিরকে ‘চাষ করা বন্য প্রাণী’ হিসেবে শ্রেণিবিন্যাস করেছেন বলে প্রতিবেদনের দাবি। এতে কুমিরগুলোকে পরিখায় ছেড়ে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বেন গভির ফ্লোরিডার অভিবাসী আটককেন্দ্র ‘অ্যালিগেটর আলকাট্রাজ’ থেকে অনুপ্রাণিত হয়েছেন, যা গত বছর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পরিদর্শন করেছিলেন।
লেখাটি ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে প্রাণী ব্যবহারের একটি দীর্ঘতর অভিযোগের প্রেক্ষাপটও তুলে ধরে। এতে পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের বুনো শূকর ছেড়ে দেওয়া, গাজার গাধা ও অন্যান্য গবাদিপশু চুরির অভিযোগ এবং কুকুর ব্যবহারের প্রসঙ্গ রয়েছে। ২০২৫ সালের এপ্রিলে ইকতাবা গ্রামের কাছে ১৮টি বুনো শূকর ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।
ফিলিস্তিনি রাজনৈতিক বন্দীদের পাহারায় কুমির ব্যবহারের পরিকল্পনার দাবি
গত ২৪ ঘন্টায় একনজরে ১৫৪ টি নিউজ শেয়ার হয়েছে। আরো নিউজ দেখতে লগইন করুন। যেকোন সমস্যায় আমাদের ফেসবুক পেজ একনজর-এ যোগাযোগ করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।