ইসরাইল ও জার্মানি একটি নতুন নিরাপত্তা সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে বলে রোববার ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে। জেরুজালেমে নেতানিয়াহু ও জার্মান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলেকজান্ডার ডব্রিন্ড এই চুক্তিতে সই করেন। বিবৃতিতে ইরান ও তার মিত্রদের, বিশেষ করে হিজবুল্লাহ, হামাস ও হুথিদের, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।
বিবৃতি অনুযায়ী, এই চুক্তি ইসরাইলের নিরাপত্তার প্রতি জার্মানির গভীর অঙ্গীকারকে প্রতিফলিত করে। এতে সাইবার প্রতিরক্ষা, উন্নত প্রযুক্তি, আইন প্রয়োগ, সন্ত্রাসবাদ দমন এবং নাগরিক সুরক্ষার ক্ষেত্রে দুই দেশের নিরাপত্তা সংস্থার মধ্যে বিস্তৃত অংশীদারিত্ব গড়ে তোলা হবে।
এর আগে গাজা যুদ্ধের কারণে গত বছরের আগস্টে জার্মানি ইসরাইলে সামরিক সরঞ্জাম রপ্তানি স্থগিত করেছিল, কারণ তারা আশঙ্কা করেছিল যে এসব অস্ত্র গাজা যুদ্ধে ব্যবহৃত হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের পর ইসরাইলের দ্বিতীয় বৃহত্তম অস্ত্র সরবরাহকারী দেশ জার্মানি।
সাইবার প্রতিরক্ষা ও সন্ত্রাস দমনে ইসরাইল-জার্মানির নতুন নিরাপত্তা চুক্তি
গাজার ফিলিস্তিনি বন্দি হামজা আবদুল্লাহ আব্দুলহাদি আদওয়ান ইসরাইলি কারাগারে মারা গেছেন বলে প্রিজনার্স অ্যাফেয়ার্স কমিশন ও ফিলিস্তিনি প্রিজনার্স সোসাইটির যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, তিনি দীর্ঘদিন ধরে হৃদ্রোগে ভুগছিলেন এবং চিকিৎসার প্রয়োজন ছিল। ২০২৪ সালের ১২ নভেম্বর উত্তর গাজার একটি সামরিক চেকপয়েন্ট থেকে তাকে আটক করা হয়। আদওয়ান বিবাহিত ছিলেন এবং নয় সন্তানের জনক; তার দুই সন্তান ২০২৩ সালের অক্টোবরে ইসরাইলের হামলায় নিহত হয়।
অধিকার গোষ্ঠীগুলো জানিয়েছে, ইসরাইল ফিলিস্তিনি বন্দিদের বিরুদ্ধে পদ্ধতিগত নির্যাতন চালাচ্ছে, যার মধ্যে রয়েছে অনাহার, চিকিৎসায় অবহেলা, যৌন নিপীড়ন, অপমান ও অবমাননাকর পরিস্থিতিতে আটক রাখা। বিবৃতি অনুযায়ী, গাজায় যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইসরাইলি কারাগারে ১০০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি বন্দি মারা গেছেন, তবে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে মাত্র ৮৭ জনের পরিচয় প্রকাশ করেছে।
এই মৃত্যুগুলো ফিলিস্তিনি বন্দিদের কারাবন্দি অবস্থার মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
ইসরাইলি কারাগারে ফিলিস্তিনি বন্দির মৃত্যু, অক্টোবর ২০২৩ থেকে মৃতের সংখ্যা ৮৭
ইসরাইলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিওন সার ইউরোপীয়ান ইউনিয়নের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ইরানের ইসলামিক রেভ্যুলেশনারি গার্ডকে (আইআরজিসি) সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করতে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, জার্মান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যালেক্সান্ডার ডব্রিন্ডের সঙ্গে এ বিষয়ে তার আলোচনা হয়েছে, যেখানে আইআরজিসিকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণার বিষয়টি উঠে আসে।
গিডিওন সার লিখেছেন, জার্মানি দীর্ঘদিন ধরেই এই অবস্থানে রয়েছে এবং বর্তমানে বিষয়টির গুরুত্ব আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডাসহ একাধিক দেশ ইতোমধ্যে ইরানের রেভ্যুলেশনারি গার্ডকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে।
১৯৭৯ সালের ইসলামিক বিপ্লবের পরপরই গঠিত আইআরজিসি ইরানের একটি প্রভাবশালী সশস্ত্র বাহিনী, যার সঙ্গে দেশের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। এই বাহিনীর নিজস্ব স্থল, নৌ ও বিমানবাহিনী ছাড়াও বাসিজ রেজিস্ট্যান্স ফোর্স নামে একটি বৃহৎ স্বেচ্ছাসেবী মিলিশিয়া বাহিনী রয়েছে।
ইরানের রেভ্যুলেশনারি গার্ডকে সন্ত্রাসী সংগঠন ঘোষণার আহ্বান জানাল ইসরাইল
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর চিফ অব স্টাফ জাচি ব্র্যাভারম্যানকে আটক করেছে পুলিশ। রবিবার ইসরায়েলি পুলিশ জানায়, তিনি গাজা যুদ্ধের সময় সামরিক তথ্য ফাঁসের তদন্তে বাধা দেওয়ার অভিযোগে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক হয়েছেন। স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, ব্র্যাভারম্যানের বিরুদ্ধে সংবেদনশীল সামরিক তথ্য ফাঁসের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগও রয়েছে। তাকে যুক্তরাজ্যে ইসরায়েলের পরবর্তী রাষ্ট্রদূত হিসেবে মনোনীত করা হয়েছিল, তবে বিরোধীরা এখন তার নিয়োগ স্থগিতের দাবি তুলেছে।
নেতানিয়াহুর সাবেক সহযোগী এলি ফেল্ডস্টেইন অভিযোগ করেছেন, গাজা যুদ্ধ চলাকালে বিদেশি সংবাদমাধ্যমে সামরিক নথি ফাঁসের তদন্তে ব্র্যাভারম্যান বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। ফেল্ডস্টেইন ২০২৪ সালে জার্মান ট্যাবলয়েডে একটি গোপন সামরিক নথি প্রকাশের অভিযোগে গ্রেপ্তার হন। ইসরায়েলি গণমাধ্যম জানিয়েছে, পুলিশ ব্র্যাভারম্যানের বাড়িতেও তল্লাশি চালিয়েছে এবং ফেল্ডস্টেইন এই বিষয়ে আরও তথ্য দিতে পারেন।
ব্র্যাভারম্যান ও ফেল্ডস্টেইন ‘কাতারগেট’ কেলেঙ্কারিতেও সন্দেহভাজন, যেখানে কাতারের ভাবমূর্তি প্রচারের অভিযোগ রয়েছে। বিরোধী নেতা ইয়ার ল্যাপিড ব্র্যাভারম্যানের রাষ্ট্রদূত নিয়োগ অবিলম্বে স্থগিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।
বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর শীর্ষ সহযোগী জাচি ব্র্যাভারম্যান। ছবি: সংগৃহীত
ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রয়েছে ইসরাইল। ইসরাইলি সূত্রের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভের মধ্যে এই সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ডিসেম্বরের শেষ দিক থেকে ইরানে বিক্ষোভ শুরু হয়, যা ইরানি মুদ্রা রিয়ালের তীব্র অবমূল্যায়ন ও অর্থনৈতিক সংকটের কারণে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে বিক্ষোভকারীদের দমন না করার সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র সাহায্য করতে প্রস্তুত।
ইসরাইলের সপ্তাহান্তের নিরাপত্তা বৈঠকে উপস্থিত সূত্রগুলো জানিয়েছে, উচ্চ সতর্কতা বলতে কী বোঝানো হয়েছে তা বিস্তারিত জানানো হয়নি। জুন মাসে ইসরাইল ইরানে হামলা চালায়, এবং ১২ দিনের যুদ্ধের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র এতে যোগ দেয়। শনিবার ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর মধ্যে ফোনালাপে ইরানে মার্কিন হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয় বলে জানা গেছে, যদিও যুক্তরাষ্ট্র এ বিষয়ে বিস্তারিত জানায়নি।
২৮ ডিসেম্বর তেহরানের গ্র্যান্ড বাজারের আশপাশে শুরু হওয়া বিক্ষোভ এখন দেশের বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়েছে, যা ইরানের অর্থনৈতিক সংকটের গভীরতা তুলে ধরছে।
ইরানে সম্ভাব্য মার্কিন হামলার আশঙ্কায় সর্বোচ্চ সতর্কতায় ইসরাইল
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ঘোষণা করেছেন যে জাতিসংঘের সাবেক মধ্যপ্রাচ্য দূত নিকোলে ম্লাদেনভকে গাজা যুদ্ধবিরতি তদারকির জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত শান্তি বোর্ডে মনোনীত করা হয়েছে। তুরস্কভিত্তিক হুররিয়েত ডেইলি জানিয়েছে, জেরুজালেমে ম্লাদেনভের সঙ্গে সাক্ষাতের পর নেতানিয়াহু তাকে বোর্ডের মনোনীত মহাপরিচালক হিসেবে উল্লেখ করেন। এই বোর্ড গাজা যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ও তুলনামূলকভাবে জটিল ধাপ বাস্তবায়ন তদারকির জন্য গঠিত হয়েছে।
একজন ঊর্ধ্বতন মার্কিন কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে ট্রাম্প প্রশাসন ম্লাদেনভকে বোর্ডের দৈনন্দিন প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। ট্রাম্প নিজে বোর্ডের প্রধান হিসেবে থাকবেন এবং আগামী সপ্তাহে আরও কিছু নিয়োগ আসতে পারে। ট্রাম্পের পরিকল্পনা অনুযায়ী, বোর্ডটি একটি নতুন টেকনোক্র্যাট ফিলিস্তিনি সরকার গঠন, হামাসের নিরস্ত্রীকরণ, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন, গাজা থেকে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার এবং পুনর্গঠন কার্যক্রম তদারকি করবে।
ম্লাদেনভ পূর্বে বুলগেরিয়ার প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন এবং ২০১৫ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত জাতিসংঘের মধ্যপ্রাচ্য শান্তি দূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
গাজা যুদ্ধবিরতি তদারকিতে ট্রাম্পের শান্তি বোর্ডে ম্লাদেনভকে মনোনীত করল ইসরাইল
ইসরাইলের ঐতিহ্যমন্ত্রী আমিচাই এলিয়াহু দাবি করেছেন, ইরানের মুদ্রা রিয়ালের পতন ও অর্থনৈতিক সংকট ঘিরে চলমান বিক্ষোভের মধ্যে ইসরাইলি এজেন্টরা বর্তমানে ইরানের ভেতরে সক্রিয়। বৃহস্পতিবার ইসরাইলের আর্মি রেডিওকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, গত বছরের জুনে ইরানের সঙ্গে সংঘটিত ১২ দিনের যুদ্ধে ইসরাইল স্থলভাগে এজেন্ট ব্যবহার করেছিল এবং এখনো একই ধরনের তৎপরতা চলছে। এলিয়াহু নিশ্চিতভাবে বলেন, ইরানের মাটিতে এখনো কিছু ইসরাইলি এজেন্ট কাজ করছে।
মন্ত্রী জানান, এসব এজেন্ট সরাসরি সরকার উৎখাতের জন্য নয়, বরং ইরানের সামরিক ও কৌশলগত সক্ষমতা দুর্বল করার লক্ষ্যে কাজ করছে, যাতে দেশটি ইসরাইলের জন্য হুমকি হয়ে না ওঠে। এর আগে তেহরান ১২ দিনের যুদ্ধের সময় ইসরাইলি গোয়েন্দা তৎপরতা স্বীকার করে এবং মোসাদের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে একাধিক গ্রেপ্তার ও মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে।
এলিয়াহুর বক্তব্য ইরানে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের অভিযোগকে আরও উসকে দিয়েছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কঠোর ভাষায় অভিযুক্ত করে সতর্ক করেছেন যে, অহংকারী শক্তিগুলোর পরিণতি ১৯৭৯ সালের রাজবংশের মতোই হবে।
ইরানে বিক্ষোভের মধ্যে ইসরাইলি এজেন্ট সক্রিয় থাকার দাবি
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে সরিয়ে নেওয়ার ঘটনায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে স্যালুট জানিয়েছেন। রোববার নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি ট্রাম্পকে স্বাধীনতা ও ন্যায়বিচারের পক্ষে সাহসী ও ঐতিহাসিক নেতৃত্বের জন্য অভিনন্দন জানান। তিনি ট্রাম্পের দৃঢ় সংকল্প ও মার্কিন সেনাদের পদক্ষেপের প্রশংসা করেন।
এই বিবৃতি আসে মাদুরোকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে নেওয়ার ঘটনার পর আন্তর্জাতিক মনোযোগের মধ্যে। নেতানিয়াহুর বক্তব্যে ট্রাম্পের সিদ্ধান্তকে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও ন্যায়বিচারের পক্ষে সাহসী পদক্ষেপ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। এতে দুই নেতার মধ্যে বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও শাসন বিষয়ে ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক অবস্থান প্রতিফলিত হয়েছে।
অন্য প্রতিবেদনগুলোতে ট্রাম্পের পদক্ষেপের আইনগত বৈধতা ও ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, যদিও নেতানিয়াহুর বিবৃতি কেবল ট্রাম্পের নেতৃত্বের প্রশংসাতেই সীমাবদ্ধ ছিল।
ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে সরানোর ঘটনায় ট্রাম্পকে প্রশংসা করলেন নেতানিয়াহু
গাজা ও অধিকৃত পশ্চিম তীরে কার্যরত ৩৭টি ত্রাণ সংস্থার লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসরাইল। এর মধ্যে রয়েছে জাতিসংঘের ফিলিস্তিন বিষয়ক শরণার্থী সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএ। ইসরাইল জানিয়েছে, নতুন নিবন্ধন নীতিমালার শর্ত পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আগামী ১ জানুয়ারি থেকে অ্যাকশন এইড, ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটি ও নরওয়েজিয়ান রিফিউজি কাউন্সিলসহ আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত কয়েকটি সংস্থার লাইসেন্স স্থগিত হবে এবং ৬০ দিনের মধ্যে তাদের কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে।
জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস ইসরাইলের এই সিদ্ধান্তের নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, এই পদক্ষেপ গাজায় ইউএনআরডব্লিউএর কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত ও দুর্বল করবে। গুতেরেসের মতে, ইসরাইলের এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক আইনি কাঠামোর সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ এবং তা অবিলম্বে বাতিল করা উচিত। তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, ইউএনআরডব্লিউএ জাতিসংঘের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং ইসরাইলকে জাতিসংঘ সনদ ও বিশেষাধিকার সংক্রান্ত কনভেনশনের অধীনে তাদের বাধ্যবাধকতা স্মরণ করিয়ে দেন।
৩৭ ত্রাণ সংস্থার লাইসেন্স বাতিলে ইসরাইলকে জাতিসংঘ মহাসচিবের নিন্দা
ইসরাইল অধিকৃত পশ্চিম তীরের সা-নূর এলাকায় ১২৬টি অবৈধ আবাসন ইউনিট নির্মাণের অনুমোদন দিয়েছে। বেসামরিক প্রশাসনের অধীনে পরিচালিত উচ্চ পরিকল্পনা কাউন্সিল এই পরিকল্পনা অনুমোদন করেছে, যার ফলে বসতি স্থাপনকারীরা সা-নূর চৌকিতে ফিরে যাওয়ার সুযোগ পাবে। ২০০৫ সালে তেলআবিব একতরফাভাবে এই এলাকা ফিলিস্তিনের ভূখণ্ড থেকে আলাদা করে নেয়।
ইসরাইলি গণমাধ্যম জানিয়েছে, ২০২৪ সালের মার্চে ইসরাইলি পার্লামেন্ট ‘বিচ্ছিন্নতা আইন বাতিল’ বিল পাস করার পর এই অনুমোদন আসে। গত ২৩ ডিসেম্বর কট্টর-ডানপন্থি অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোত্রিচ ১২৬টি আবাসন ইউনিটের প্রস্তাব বিবেচনা করতে উচ্চ পরিকল্পনা পরিষদের বৈঠক আহ্বান করেন। চ্যানেল-৭ জানিয়েছে, পরিকল্পনাটি প্রায় দুই মাসের মধ্যে কার্যকর হবে।
ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আহ্বান জানিয়েছে, দখলকৃত পশ্চিম তীরে অবৈধ বসতি নির্মাণ বন্ধে ইসরাইলের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে। জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী এসব বসতি অবৈধ।
অধিকৃত পশ্চিম তীরের সা-নূরে ১২৬টি অবৈধ বসতি স্থাপনের অনুমোদন ইসরাইলের
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দেশটির প্রভাবশালী দৈনিক ‘হারেৎজ’ পত্রিকাকে বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন। মিডল ইস্ট মনিটরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজা যুদ্ধে ‘শত্রুদের সমর্থনের’ অভিযোগে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর আওতায় পত্রিকাটির সঙ্গে বিজ্ঞাপন ও সম্পাদকীয় সম্পর্ক ছিন্ন করা হয়েছে। সরকারি নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সব মন্ত্রণালয়, সরকারি বিজ্ঞাপনী সংস্থা ও রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানিগুলোকে হারেৎজের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক না রাখতে বলা হয়েছে। ২০২৪ সালের নভেম্বরে গৃহীত সরকারি সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে এই বর্জন কার্যকর হয়েছে।
ইসরাইল সরকার জানিয়েছে, গাজা যুদ্ধ চলাকালে হারেৎজ এমন কিছু সম্পাদকীয় প্রকাশ করেছে যা ইসরাইলের বৈধতা ও আত্মরক্ষার অধিকারকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। সরকারের দাবি, কোনো সংবাদপত্র যদি শত্রুদের সমর্থন করে এবং আন্তর্জাতিকভাবে ইসরাইলের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানায়, তবে তা মেনে নেওয়া হবে না।
এদিকে, ইসরাইলের অ্যাটর্নি জেনারেল সতর্ক করেছেন যে নতুন বিধিনিষেধ সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে এবং এতে বাণিজ্যিক ও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের ঝুঁকি বাড়বে।
গাজা যুদ্ধের প্রতিবেদন নিয়ে হারেৎজকে সরকারি বর্জনের নির্দেশ নেতানিয়াহুর
ইসরাইল ফিলিস্তিনে ত্রাণ সহায়তা প্রদানকারী ৩৭টি সংস্থার লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দেশটির দাবি, এসব সংস্থা নতুন নিবন্ধন বিধিমালার শর্ত পূরণে ব্যর্থ হয়েছে এবং তাদের কর্মীদের সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত তথ্য জমা দেয়নি। বিবিসির তথ্যমতে, অ্যাকশনএইড, ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটি ও নরওয়েজিয়ান রিফিউজি কাউন্সিলের মতো আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর লাইসেন্স ১ জানুয়ারি থেকে স্থগিত হবে এবং ৬০ দিনের মধ্যে কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে।
এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছে যুক্তরাজ্যসহ ১০টি দেশ। তারা বলেছে, নতুন নিয়মগুলো অতিরিক্ত কঠোর ও অগ্রহণযোগ্য। যৌথ বিবৃতিতে এসব দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা সতর্ক করেছেন, আন্তর্জাতিক এনজিওগুলোর কার্যক্রম বন্ধ হলে গাজায় স্বাস্থ্যসেবা ও জরুরি সহায়তা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে। তারা ইসরাইলকে আহ্বান জানিয়েছেন, যেন এনজিওগুলো টেকসইভাবে কাজ চালিয়ে যেতে পারে।
জাতিসংঘ-সমর্থিত হিউম্যানিটারিয়ান কান্ট্রি টিম আগেই সতর্ক করেছিল যে, ইসরাইলের নতুন নিবন্ধন নীতিমালা গাজা ও পশ্চিম তীরে এনজিও কার্যক্রমকে মৌলিকভাবে ঝুঁকির মুখে ফেলছে এবং মানবিক নীতির ভিত্তি ক্ষুণ্ন করতে পারে।
ফিলিস্তিনে ৩৭ ত্রাণ সংস্থার লাইসেন্স বাতিল করল ইসরাইল, আন্তর্জাতিক সমালোচনা
ইসরাইল যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকায় কর্মরত কয়েকটি দাতা ও মানবিক সংস্থার কার্যক্রম স্থগিতের হুঁশিয়ারি দিয়েছে। তেলআবিবের অভিযোগ, এসব সংস্থা নতুন নিয়ম মেনে চলতে ব্যর্থ হয়েছে। আগামী বৃহস্পতিবার থেকে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে এবং এতে ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস, নরওয়েজিয়ান রিফিউজি কাউন্সিল, কেয়ার ইন্টারন্যাশনাল, ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটি, অক্সফাম ও কারিতাসসহ তিন ডজনেরও বেশি সংস্থা প্রভাবিত হবে। ইসরাইল বলছে, সংস্থাগুলো তাদের কর্মী, তহবিল ও কার্যক্রম সম্পর্কিত তথ্য ভাগ করে নেওয়ার শর্ত পূরণ করেনি।
ইসরাইল আরও অভিযোগ করেছে, ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস তাদের কিছু কর্মীর ভূমিকা স্পষ্ট করতে ব্যর্থ হয়েছে এবং তারা হামাসের সঙ্গে সহযোগিতা করছে। সংস্থাটি এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, ইসরাইলের সিদ্ধান্ত গাজায় তাদের চিকিৎসা কার্যক্রমে বিপর্যয় ডেকে আনবে। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো ইসরাইলের নতুন নিয়মকে স্বেচ্ছাচারী বলে অভিহিত করেছে, আর তেলআবিব জানিয়েছে, ৩৭টি সংস্থার পারমিট নবায়ন করা হয়নি।
এই পদক্ষেপ গাজায় মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে নতুন অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করতে পারে বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
গাজায় নতুন নিয়ম না মানায় ৩০টির বেশি সংস্থার কার্যক্রম স্থগিতের হুঁশিয়ারি
হামাসের সঙ্গে সম্পাদিত যুদ্ধবিরতি ও বন্দি বিনিময় চুক্তির আওতায় গাজা থেকে আটক ১০ জন ফিলিস্তিনিকে মুক্তি দিয়েছে ইসরাইল। রোববার বার্তা সংস্থা আনাদোলু এ তথ্য জানিয়েছে। মুক্তিপ্রাপ্তদের আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটি (আইসিআরসি) ডেইর আল-বালাহ এলাকার আল-আকসা মার্টার্স হাসপাতালে নিয়ে যায়, যেখানে তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসা দেওয়া হয়।
ফিলিস্তিনি ও ইসরাইলি মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ইসরাইলের কারাগারে ৯,৩০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি বন্দি রয়েছেন, যাদের মধ্যে নারী ও শিশুও আছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব বন্দির বিরুদ্ধে নির্যাতন, অনাহার ও চিকিৎসা অবহেলার অভিযোগ রয়েছে, যার ফলে অনেকের মৃত্যু হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো জানিয়েছে, গাজায় চলমান যুদ্ধে ফিলিস্তিনি বন্দিদের ওপর নিপীড়ন আরও বেড়েছে।
অক্টোবর ২০২৩ থেকে শুরু হওয়া এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত ৭০,৯০০-এর বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন এবং প্রায় ১,৭১,২০০ জন আহত হয়েছেন। গাজার বিস্তীর্ণ অঞ্চল ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।
যুদ্ধবিরতি ও বন্দি বিনিময়ে গাজা থেকে ১০ ফিলিস্তিনি মুক্তি দিয়েছে ইসরাইল
ইসরাইলের জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির দক্ষিণ ফিলিস্তিনের অধিকৃত নেগেভ অঞ্চলের তারাবিন বেদুইন গ্রাম পরিদর্শনে গেলে ক্ষুব্ধ ফিলিস্তিনিদের হামলার মুখে পড়েন। রোববার ইসরাইলি বাহিনী ওই গ্রামে অভিযান চালিয়ে কয়েকজন ফিলিস্তিনিকে গ্রেপ্তার করার পর এই ঘটনা ঘটে। পুলিশি অভিযানের তদারকি করতে গিয়ে বেন-গভিরের ওপর গ্রামবাসীরা পাথর নিক্ষেপ করে, ফলে তিনি কড়া নিরাপত্তা বেষ্টনীতে এলাকা ত্যাগ করেন।
চ্যানেল-১৪ জানায়, মন্ত্রীর সফরকালে গ্রামবাসীরা পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে এবং এক পর্যায়ে বেন-গভিরের দিকে পাথর ছোড়ে। সামাজিকমাধ্যমে ছড়ানো ভিডিওতে দেখা যায়, ফিলিস্তিনিরা পাথর ছুঁড়ছে এবং মন্ত্রী পুলিশি সুরক্ষায় এলাকা ছেড়ে যাচ্ছেন। ইসরাইলি পুলিশ কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে গ্রামবাসীদের ছত্রভঙ্গ করে।
মিডল ইস্ট আই সূত্রে জানা যায়, অধিকৃত নেগেভ অঞ্চলে ইসরাইলি অভিযান ও ফিলিস্তিনিদের প্রতিরোধের কারণে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে।
নেগেভে ফিলিস্তিনিদের পাথর নিক্ষেপে পালালেন ইসরাইলি মন্ত্রী বেন-গভির
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু রোববার যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে যাত্রা করবেন এবং পরদিন ফ্লোরিডায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করবেন বলে জেরুজালেমের এক ইসরাইলি কর্মকর্তা জানিয়েছেন। চলতি বছরে এটি হবে তাদের পঞ্চম সাক্ষাৎ, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীরা ইসরাইল ও হামাসের মধ্যে গাজা যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপে অগ্রগতি আনতে চাপ দিচ্ছে।
ইসরাইলি দৈনিক ইদিয়োথ আহরোনোথ জানিয়েছে, বৈঠকে ইরান, ইসরাইল-সিরিয়া নিরাপত্তা চুক্তি, লেবাননে হিজবুল্লাহর সঙ্গে যুদ্ধবিরতি এবং গাজা চুক্তির পরবর্তী ধাপসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক বিষয় আলোচনায় আসতে পারে। অক্টোবরে ওয়াশিংটন ও আঞ্চলিক মিত্রদের মধ্যস্থতায় হওয়া গাজা যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপে অগ্রগতি ধীর, উভয় পক্ষই একে অপরকে চুক্তি ভঙ্গের অভিযোগ করছে এবং মধ্যস্থতাকারীরা আশঙ্কা করছেন প্রক্রিয়াটি ইচ্ছাকৃতভাবে দীর্ঘায়িত হচ্ছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, ট্রাম্প-নেতানিয়াহু বৈঠক গাজা চুক্তির পরবর্তী ধাপে অগ্রগতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, শান্তি প্রক্রিয়ায় অগ্রগতি না হওয়ায় নেতানিয়াহুর ভূমিকা নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে।
গাজা যুদ্ধবিরতি অগ্রগতি থমকে, ফ্লোরিডায় ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে নেতানিয়াহু
ইসরাইলের প্রতি ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার নিরপেক্ষ আন্তর্জাতিক তদন্তের অনুমতি দিতে আহ্বান জানিয়েছে হামাস। ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী এই সংগঠনটি ৪২ পৃষ্ঠার একটি নথি প্রকাশ করে ইসরাইলি বেসামরিক নাগরিকদের হত্যা বা নৃশংসতার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। নথিতে ওই দিনের ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ, গাজায় ইসরাইলের কর্মকাণ্ড এবং চলমান যুদ্ধ নিয়ে হামাসের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরা হয়েছে।
নথিতে হামাস দাবি করেছে, পশ্চিমা গণমাধ্যম ও ইহুদিবাদী লবি গোষ্ঠীগুলো হামলার বিষয়ে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালিয়েছে এবং শিশু হত্যা ও নারী ধর্ষণের মতো মিথ্যা তথ্য ছড়িয়েছে। হামাস বলেছে, এসব অভিযোগ গাজায় গণহত্যা চালানোর পথ প্রশস্ত করেছে। সংগঠনটি জানায়, হামলার পর তারা বেসামরিক বন্দিদের মুক্তির প্রস্তাব দিয়েছিল, যা ইসরাইল প্রথমে প্রত্যাখ্যান করে। পরে ২০২৩ সালের নভেম্বরে সংক্ষিপ্ত যুদ্ধবিরতির সময় প্রায় ১০০ জিম্মিকে বিনিময়ে মুক্তি দেওয়া হয়।
নথিতে হামাস ৭৭ বছরের দখলদারিত্ব, ১৭ বছরের অবরোধ, অসলো চুক্তি লঙ্ঘন এবং আন্তর্জাতিক ব্যর্থতাকে হামলার পেছনের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে। উপসংহারে বলা হয়, হামাস ফিলিস্তিনি জাতীয় কাঠামোর অবিচ্ছেদ্য অংশ।
৭ অক্টোবরের হামলায় বেসামরিক হত্যার অভিযোগ অস্বীকার করে আন্তর্জাতিক তদন্ত চায় হামাস
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু রোববার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ফ্লোরিডার মার-এ-লাগো রিসোর্টে সাক্ষাৎ করবেন। বৈঠকে তিনি ইরানের বিরুদ্ধে আরও সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য চাপ দেবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। গত জুনে যুক্তরাষ্ট্র তেহরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালায়, যা ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, নেতানিয়াহু এতে সন্তুষ্ট নন এবং এবার ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে লক্ষ্যবস্তু করছেন।
ইসরাইলি কর্মকর্তা ও তাদের মিত্ররা ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সমস্যা দ্রুত সমাধানের আহ্বান জানাচ্ছেন, যদিও বিশ্লেষকরা মনে করেন নতুন সংঘর্ষ ট্রাম্পের ঘোষিত বৈদেশিক নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হবে। সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল পলিসির সিনা তুসি বলেন, ট্রাম্প যেখানে ইসরাইল ও আরব রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করতে চান, নেতানিয়াহু সেখানে সামরিক আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করছেন।
কুইন্সি ইনস্টিটিউটের ত্রিতা পারসি আলজাজিরাকে বলেন, ইসরাইল যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতে জড়িয়ে রাখতে চায় এবং পারমাণবিক ইস্যু সমাধানের ঘোষণার পর এখন ক্ষেপণাস্ত্র ইস্যুতে মনোযোগ দিচ্ছে।
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ইস্যুতে ট্রাম্পকে আরও পদক্ষেপে চাপ দিচ্ছেন নেতানিয়াহু
ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাৎজ ঘোষণা করেছেন, তেলআবিব কখনোই গাজা ছাড়বে না। তিনি গাজা উপত্যকার চারপাশে একটি বিস্তৃত নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলার পাশাপাশি এর উত্তরাঞ্চলে বসতি স্থাপনের অনুমোদনের পরিকল্পনার কথা জানান। বৃহস্পতিবার এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব মন্তব্য করেন বলে আনাদোলু বার্তা সংস্থা জানিয়েছে। এর আগে মঙ্গলবারও তিনি উত্তর গাজায় বসতি নির্মাণের বিষয়ে একই ধরনের মন্তব্য করেছিলেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে ইসরাইল ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় যুদ্ধ শুরু করে, যাতে ৭১ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত ও আহত হয়, যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। ট্রাম্পের প্রস্তাবের ভিত্তিতে ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও ইসরাইল প্রতিদিন তা লঙ্ঘন করছে, যার ফলে আরও ৪১১ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
কাৎজ বলেন, সময় এলে উত্তর গাজায় নাহাল আউটপোস্ট স্থাপন করা সম্ভব হবে এবং ইসরাইল গাজায় কার্যত নিজেদের সার্বভৌমত্ব প্রয়োগ করবে। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ অভিযোগ করেছে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইসরাইল পশ্চিম তীরে সংযুক্তিকরণ, বাড়িঘর ধ্বংস ও বসতি সম্প্রসারণের পদক্ষেপ জোরদার করেছে, যা জাতিসংঘের প্রস্তাবিত দ্বি-রাষ্ট্রীয় সমাধানকে বিপন্ন করছে।
গাজা ছাড়বে না ইসরাইল, উত্তরাঞ্চলে নতুন বসতি স্থাপনের পরিকল্পনা
যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, কানাডা ও ডেনমার্কসহ ১৪টি দেশ অধিকৃত পশ্চিম তীরে ১৯টি নতুন বসতি স্থাপনের অনুমোদন দেওয়ায় ইসরাইলের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। যৌথ বিবৃতিতে দেশগুলো বলেছে, এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করছে এবং গাজায় ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে বিপন্ন করছে।
বেলজিয়াম, জার্মানি, ইতালি, আইসল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, জাপান, মাল্টা, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, স্পেন ও যুক্তরাজ্যসহ দেশগুলো ইসরাইলকে সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের আহ্বান জানায়। তারা বসতি সম্প্রসারণ ও সংযুক্তির যেকোনো নীতির বিরোধিতা পুনর্ব্যক্ত করে এবং ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের প্রতি সমর্থন জানায়। ইসরাইলের কট্টর-ডানপন্থী অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোত্রিচ বলেন, এই পদক্ষেপ ভবিষ্যতে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের প্রচেষ্টা রোধের উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত ইসরাইলের পশ্চিমা মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জটিল করতে পারে এবং গাজা যুদ্ধবিরতি রক্ষার প্রচেষ্টাকে দুর্বল করতে পারে। ঘটনাটি দুই-রাষ্ট্র সমাধান ও আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি প্রতিশ্রুতি নিয়ে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।
পশ্চিম তীরে নতুন বসতি অনুমোদনে ইসরাইলের বিরুদ্ধে ১৪ দেশের নিন্দা
গত ২৪ ঘন্টায় একনজরে ৯৩ টি নিউজ শেয়ার হয়েছে। আরো নিউজ দেখতে লগইন করুন। যেকোন সমস্যায় আমাদের ফেসবুক পেজ একনজর-এ যোগাযোগ করুন।